আন্তর্জাতিক বাজারে কমেই চলেছে কোকোর দাম। পণ্যটির বাজারদর নেমে এসেছে ২০ মাসের সর্বনিম্নে। বিশ্লেষকরা বলছেন, উচ্চমূল্যের কারণে ভোক্তা চাহিদা কমে গেছে। একই সঙ্গে পশ্চিম আফ্রিকায় অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের জন্য বাড়তি মূল্য নিশ্চয়তার ফলে উৎপাদন বাড়বে—এমন প্রত্যাশায় দাম আরো কমছে। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
নিউইয়র্কের বাজারে কোকোর দাম বর্তমানে টনপ্রতি প্রায় ৬ হাজার ১৫০ ডলার, যা গত ডিসেম্বরে ১২ হাজার ডলারের বেশি ছিল। লন্ডনের বাজারে দাম গত বছরের এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ৫৮ শতাংশ কমে টনপ্রতি দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২৬২ ডলারে।
নেদারল্যান্ডসভিত্তিক রাবোব্যাংকের পণ্য বিশ্লেষক ওরান ভান ডর্ট বলেন, ‘কোকোর দামের অস্বাভাবিক উত্থান দীর্ঘস্থায়ী ছিল না। আগস্টের মাঝামাঝি থেকে আমরা ধারাবাহিক নিম্নমুখী প্রবণতা দেখছি।’
আইভরি কোস্ট সরকার নির্বাচনের আগে কৃষকদের জন্য দাম ২৫ শতাংশের বেশি বাড়িয়ে টনপ্রতি প্রায় ৫ হাজার ডলার করেছে। ঘানাও দাম বাড়িয়ে ৫৮ হাজার সেডি (প্রায় ৪ হাজার ৬০০ ডলার) নির্ধারণ করেছে। এতে উৎপাদনকারীরা আবারো চাষে আগ্রহী হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন গাগনোয়া শহরের স্কুপেগা–স্কুপস সমবায়ের প্রধান নির্বাহী আঁজ লরঁ গন্যান।
২০২২ সালে আইভরি কোস্ট ও ঘানায় খরা, রোগ ও বিনিয়োগ ঘাটতির কারণে কোকোর সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছিল। তবে চলতি বছর বৃষ্টি হওয়ায় উৎপাদনের ঝুঁকি কমেছে। ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে (অক্টোবর-সেপ্টেম্বর) বিশ্বব্যাপী কোকোর সরবরাহ চাহিদার চেয়ে বেশি হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।